Feeds:
পোস্ট
মন্তব্য

এবারের শীতে বৃষ্টিগুলো ঠিক জমেনি৷ প্রায় প্রতিদিন ই বৃষ্টি হয় একটু একটু করে, তাতে না ভরেছে মন, না ভরেছে প্রকৃতি, আসলে বর্ষাকাল হওয়া সত্বেও দেশের বৃষ্টিকে খুবই মিস করছিলাম৷ কিন্তু আজ বৃষ্টি নেমেছে একেবারে সবকিছু ছাপিয়ে৷ দেশে থাকতে বৃষ্টির সময় ছাদের চিলে কোঠায় চলে যেতাম টিনের চালের ঝমঝম শব্দ শোনার জন্য। গাছের পাতায় ঝরঝর শব্দে সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চাইছিল।

শীতকাল, এমনিতেই খুব তারাতারি রাত হয়ে যায়। মেঘের জন্য মাঝ বিকালেই আবছা অন্ধকার হয়ে গেলো। আলফ্রেড ডিকিন বিল্ডিংয়ের পাঁচতলায় দাড়িয়ে এই বৃষ্টি দেখতে দেখতে একটু নস্টালজিক হয়ে গেলাম। অন্ধকারের মধ্যে একটানা ঝমঝম শব্দ৷ ঝরঝর শব্দের একটানা বয়ে যাওয়া! মাঝে মাঝে অন্ধকার আকাশ চিরে বিদ্যুতের জ্বলে যাওয়া, আর মেঘেদের গুরুগম্ভীর গুরু গুরু শব্দ৷ এ যেন এক অন্য পৃথিবীতে বসবাস।    

অপার্থিব সেই পরিবেশের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মনে পড়লো একটি মুখ৷ খুব সুন্দর, প্রিয় একটি মুখ৷ চোখের পাতায় ভালোলাগা মুখটা খেলা করে যাচ্ছিলো৷ দেখতে পাচ্ছিলাম তার হাসি, তার কালো চোখের তারায় খেলা করে যাওয়া ভালোলাগা৷ দেখতে পাচ্ছিলাম তার কপালের ছোট্ট লাল টিপ, এলোচুলে ভেসে যাওয়া মন৷ শুনতে পাচ্ছিলাম তার অপার্থিব সুন্দর রিনিঝিনি হাসির শব্দ, তার হেঁটে যাওয়ার সুন্দর ছন্দ৷

আমার সামনে দাঁড়িয়ে দু’চোখে একরাশ ভালোলাগা ছড়িয়ে সে প্রশ্ন করলো, “আচ্ছা তুমি এতো এলোমেলো কেন?”

ম্যাট এর ধাক্কায় ভাবের জগতের পতন হল। বলে mate lets go home, its freezing cold here. ভিজে ভিজে দ্রুত পায়ে কার পার্কের দিকে এগোতে থাকলাম। কিন্তু সেই রিনিঝিনি হাসির শব্দ আর কিছুতেই পিছু ছাড়লো না।

হে ঈশ্বর তোমার পৃথিবী এত ভালোলাগে কেন? সেও কি এখন বৃষ্টি দেখছে আমারি মত? সে বুঝি এখন ভাবছে আমারি কথা? জানালায় দাঁড়িয়ে, কার্নিশে জমে যাওয়া পানিতে সে কি দেখছে আমার মুখখানি? প্রতিবিম্বের সেই চোখ দু’টিতে তাকিয়ে সে কি হাসছে আপন মনে? সেই চোখে চোখ রেখে বুঝিবা বলছে সে ফিসফিসিয়ে, “কেন তুমি এরকম এলোমেলো?”

আমি কি তাকে বলব? বলব আমার ভালোলাগার কথা? আজকেই কি বলবার দিন? সে কি আসবে? আমি শিহরিত হই! নিজের অজান্তেই একলা আপন মনে হাসি৷ বুকের গভীরে অজানা এক ভালোলাগা খেলা করে যায়৷ বুঝিবা ……

এমন দিনে তারে বলা যায়

এমন ঘন ঘোর বরিষায়

এমন দিনে মন ভোলা যায়

এমন মেঘ সনে

বাদল ঝড় ঝড়ে

তপন হীন তব ঘন তমসায়……..

 

 

 

নতুন পাকিস্তান দুঃখ প্রকাশ করবেই – হামিদ মীর

 

ফিলিস্তিনি সাংবাদিক জাকি জনপ্রিয় একটি আরব টিভি চ্যানেলে কাজ করেন১৯৭১ সালে গণহত্যার জন্য বাংলাদেশি ভাইদের কাছে সম্প্রতি পাকিস্তানের সাংবাদিক ও আইনজীবীরা ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টির প্রশংসা করেন তিনিজাকি দাবি করেছেন, একইভাবে ফিলিস্তিনিদের কাছেও পাকিস্তানিদের ক্ষমা চাওয়া উচিতকারণ, ১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বরে জর্ডানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যার জন্য পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তারা দায়ী

 

আমি জাকিকে বলেছিলাম, বাংলাদেশে ৩০ লাখের বেশি মানুষের হত্যার জন্য পাকিস্তানি গণমাধ্যম বা আইনজীবীরা দায়ী নয়কিছু জেনারেল এই অপরাধের নির্দেশ দিয়েছিলেনচুড়ান্ত অবস্থায় পাকিস্তানি সেনারা তাঁদের সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করেছিলআমরা পাকিস্তানিরা আসলে চাইছি, আমাদের সেনাবাহিনী বাংলাদেশিদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করুকআমরা বেশ কয়েক মাস ধরে এই দুঃখ প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছিকিন্তু আমরা যখন বুঝলাম, এতে আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে, তখন আমরা পাকিস্তানের বেসামরিক মানুষের পক্ষে বাংলাদেশিদের কাছে দুঃখ প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিইকিন্তু ফিলিস্তিনিদের ঘটনাটি সম্পুর্ণ ভিন্ন

 

ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল হক (পরে যিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রধান হয়েছিলেন এবং ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন) ১৯৭০ সালে জর্ডানি সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় ডিভিশনের অধিনায়ক ছিলেনতিনি আম্মানে মার্কিন সেনাবাহিনীর সমর্থনে ফিলিস্তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিলেনএই মুক্তিযোদ্ধারা সুইস বিমান ও প্যান অ্যাম বিমান ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেনতাঁরা জর্ডানের বাদশা হোসেন হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেনতখন বাদশা পাকিস্তানের কাছে সহায়তা চানবাদশার অনুরোধে পাকিস্তান সরকার ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার এই সামরিক কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছিল জর্ডানেসেই কর্মকর্তাই হচ্ছেন জিয়াউল হকএই কর্মকর্তা জর্ডান সেনাবাহিনীর মাধ্যমে তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিলেন

 

জাকি সন্তুষ্ট হলেন নাতিনি যুক্তি দেখাতে লাগলেন, জেনারেল ইয়াহিয়া খানই ১৯৭০ সালে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করার জন্য ব্রিগেডিয়ার জিয়াকে নির্দেশ দিয়েছিলেনআবার এই ইয়াহিয়া হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি ১৯৭১ সালে জেনারেল টিা খান ও জেনারেল নিয়াজীকে বাংলাদেশিদের হত্যা করার নির্দেশ দেনজাকি বলেন, ইয়াহিয়া খান বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে যে অপরাধ করেছিলেন, সে জন্য যদি আপনারা দুঃখ প্রকাশ করতে পারেন তাহলে ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে সেই ইয়াহিয়ার একই ধরনের অপরাধের জন্য কেন আপনারা দুঃখ প্রকাশ করতে পারেন না? নিশ্চয় জাকির কথার যুক্তি আছেশেষ পর্যন্ত আমি অবশ্য ওই অপরাধের জন্য তাঁর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি, যে অপরাধ আমি ব্যক্তিগতভাবে করিনিতবে আমার লজ্জা হচ্ছিল এই ভেবে যে জিয়া হচ্ছেন একজন পাকিস্তানি, যিনি কি না ফিলিস্তিনিদের হত্যা করেছিলেন১৯৭১ সালের গণহত্যার বিরুদ্ধে আমার অবস্থানের কারণে ইতিমধ্যে পাকিস্তানি এস্টাবলিশমেন্টের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরাগভাজন হয়েছি আমিকিন্তু এ নিয়ে আমার কোনো অনুতাপ নেইপাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষ আমাদের এই দুঃখ প্রকাশের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছে

 

সন্দেহ নেই, ২০০৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর আধুনিক পাকিস্তানের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক দিনএই দিন ছিল পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর জন্নদিনপাকিস্তানের সাংবাদিক, লেখক, কবি, আইনজীবী, ছাত্র ও সুশীল সমাজের মানুষ ইসলামাবাদ প্রেসক্লাবের সামনে ফুটপাতে মোশাররফ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর মাধ্যমে কায়েদে আযমের জন্নদিন উদযাপন করেছেনআমাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের জন্য খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অনেক নেতা ওই দিন একই ফুটপাতে বড়দিন পালন করেনইতিহাসে এই প্রথম জিন্নাহর জন্নদিন পাকিস্তানের রাজধানীর ফুটপাতে পালিত হলোঅনেক বক্তা বলেছেন, পাকিস্তান এখন ১৯৭১ সালের মতো ভয়াবহ এক পরিস্িথতি পার করছেসাবেক আমলা রোয়েদাদ খান বলেন, ১৯৭১ সালে তিনি ঢাকায় তথ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেনতখন যেসব বাঙালি পাকিস্তানি কেবল আইনের শাসনের দাবি করেছিল, তাদের কীভাবে হত্যা করা হয়েছে সে দৃশ্য তিনি নিজেন চোখে দেখেছেনসেনাবাহিনীর সহিংসতা পরিস্িথতিকে আরও নাজুক করে তুলেছিলতাদের কারণে পাকিস্তান বিভক্ত হয়েছেরোয়েদাদ খান বলেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবার ইসলামাবাদ থেকে বেলুচিস্তান পর্যন্ত নিজের জনগণকে হত্যা করছেকিন্তু তাদের এই সহিংসতা আরও বেশি সহিংসতার জন্ন দেবে

 

রোয়েদাদ খানের বক্তৃতার পর সমাবেশে উপস্িথত জনগণের পক্ষ থেকে আমাকে বক্তৃতা দিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়বক্তৃতায় আমি একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করি যে, ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য সাধারণ পাকিস্তানিদের পক্ষ থেকে আজ অবশ্যই আমাদের বাংলাদেশি ভাই-বোনদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে হবেসেই সঙ্গে আমাদের অবশ্যই দাবি জানাতে হবে, পাকিস্তানি সরকারকেও আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করতে হবেঅপ্রত্যাশিতভাবে উপস্িথত অগুনতি মানুষ আমার প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানায়কয়েক মিনিটের মধ্যে বেশ কিছু ছাত্র ব্যানার তৈরি করে ফেলে, যাতে কালো মার্কার কলম দিয়ে লেখা ছিল, ‘প্রিয় বাংলাদেশিরা, একাত্তরের গণহত্যার জন্য আমরা দুঃখিতকিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যানারটি সমাবেশের মঞ্চে আনা হয়আর এই ব্যানার আমাদের সমাবেশের চারপাশে মোতায়েন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মর্মাহত করেতবে তাঁরা নীরবই ছিলেনপরে সন্ধ্যার দিকে আমরা যখন সমাবেশস্থল ত্যাগ করছিলাম, তখন একজন বয়স্ক ব্যক্তি আমাদের থামালেনতিনি জাতিতে পাঠানআমাকে বললেন, ‘ব্যাটা, ৩৬ বছর পর তুমি বাংলাদেশিদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছকিন্তু ২০০৭ সালের জুলাইয়ে লাল মসজিদে গণহত্যার জন্য কে দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা প্রার্থনা করবে?’

 

আসলে গত বছর লাল মসজিদে গণহত্যার পর ১৯৭১ সালে তাদের বাংলাদেশি ভাইদের কপালে কী ঘটেছিল, অধিকাংশ পাকিস্তানি বোধহয় তা বুঝতে পেরেছে২০০৭ সালের জানুয়ারিতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের নামে যখন সাতটি মসজিদ ভেঙে ফেলে, তখন থেকেই লাল মসজিদ সংকটের শুরুলাল মসজিদের খতিব এসব মসজিদ ভাঙার বিরোধিতা করেছিলেন এবং মসজিদের পার্শ্ববর্তী মাদ্রাসার ছাত্রীরা প্রতিবাদস্বরূপ কাছের একটি ভবন দখল করেতারা ভেঙে ফেলা মসজিদ পুনর্নির্মাণের দাবি জানায়এই সংকট ছয় মাস ধরে চলতে থাকেসব শেষে জেনারেল মোশাররফ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে ছোট ছোট ছাত্রীকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করার সিদ্ধান্ত নেনলাল মসজিদকে পাকিস্তানে আল-কায়েদার ঘাঁটি বলে ঘোষণা দেন তিনিলাল মসজিদে প্রথমে রকেট হামলা চালানো হয়, তারপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কমান্ডোরা মসজিদ ভবনে ঢোকেমসজিদের ভেতরে কয়েক শ ছাত্রছাত্রীকে হত্যা করা হয়েছেতবে গণহত্যার নমুনা ধ্বংস করে ফেলতে তাদের মৃতদেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়দগ্ধ মৃতদেহগুলোর স্থান হয় শহরের বাইরে গণকবরেশত শত ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক এখনো নিখোঁজসুপ্রিম কোর্ট এই গণহত্যার ঘটনাটি আমলে নেন এবং এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেনআর এ কারণে ২০০৭ সালের ৩ নভেম্বর মোশাররফ প্রধান বিচারপতি ইফতিখার মোহাম্মদ চৌধুরীকে বরখাস্ত করেন

 

বিচারপতি ইফতিখার সেইসব গোয়েন্দা সংস্থার জন্য বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছিলেন, যারা ২০০৬ সালে বেলুচ বিদ্রোহীদের এবং ২০০৫ সালে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের উপজাতীয় এলাকায় গণহত্যার জন্য দায়ীঅনেক বিশ্লেষক বলছেন, পশতু উপজাতীয় এলাকায় সরকার গণহত্যা চালানোর কারণে পাকিস্তানে সম্প্রতি আত্মঘাতী বোমা হামলা বেড়ে গেছেপ্রথম সিআইএ এবং পরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এই পশতু উপজাতির লোকজনকে রাশিয়ার (পূর্বতন সোভিয়েত ইউনিয়ন) বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিলআর এখন সেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর লোকেরাই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের হত্যা করছেপাকিস্তানে জেনারেলদের এসব কাজে সব সময় সমর্থন দিয়েছে সিআইএকারণ, এই জেনারেলরা যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট রাখতে নিজের লোকদের হত্যা করতেও প্রস্তুতএমনকি তাঁরা পাকিস্তানের প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোকে হত্যা করেছেপরে এই জেনারেলরাই নোংরা রাজনীতিকে রূপান্তরিত হনএরাই নিজের দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছেন

 

আল্লাহকে ধন্যবাদ, এখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কিছু কিছু শিখতে শুরু করেছেনতুন সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কায়ানি নির্দেশ জারি করেছেন যে, সেনাবাহিনীকে রাজনীতি থেকে দুরে থাকতে হবেএমনকি মোশাররফপন্থী পাকিস্তান মুসলিম লিগ-কায়েদে আযমকে (পিএমএল-কিউ) সহযোগিতা করতে মোটেই আগ্রহী নন তিনি১৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন স্থগিত করতে আগ্রহ নেই তাঁরজেনারেল কায়ানি নিশ্চিত, সত্যিকারের গণতন্ত্রই কেবল দেশকে বাঁচাতে পারেনতুন সরকার অস্ত্র বা বোমা দিয়ে নয়, সংলাপের মাধ্যমে পশতু উপজাতীয় এলাকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেসেনাবাহিনী যদি রাজনীতি থেকে দুরে থাকে, তাহলে পাকিস্তান আরেকটি ইরাক হবে নাসিআইএ এখন চাচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোকে হত্যার নামে সেনাবাহিনী আরও পশতুকে হত্যা করুককিন্তু প্রয়াত নেত্রীর দল ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেপিপিপি সিআইএর দাবি মেনে নিতে রাজি নয়দলের নেতারা মানতে রাজি নন যে, আল-কায়েদার প্রতি সহানুভুতিশীল পশতুরা বেনজিরকে হত্যা করেছে১৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তাঁরা নতুন করে তদন্ত শুরু করতে চানকারণ, ওই দিনটি পাকিস্তানকে বদলে দিতে পারেএই দেশ মোশাররফকে ছাড়াও টিকতে পারবেকারণ, এ পৃথিবীতে কেউই অপরিহার্য নয়১৮ ফেব্রুয়ারির পর নতুন পাকিস্তান হবেএকদিন আমাদের সরকার শুধু বাংলাদেশিদের কাছেই নয়, ফিলিস্তিনিদের কাছেও আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করবে

 

ইংরেজি থেকে অনুদিত

হামিদ মীর: নির্বাহী সম্পাদক, জিয়ো টেলিভিশন, পাকিস্তান   

 

 

 

১.


“” আমার ভালবাসা, আমার প্রাণপ্রিয়,

এত আনন্দ আমি কীভাবে যে তোমাকে বোঝাব! কোনো ভূমিকা ছাড়াই বলছি, তোমার একটা মেয়ে হয়েছে, এরকবারে চাঁদের মত সুন্দর। তুমি বাবা হয়েছ, আর আমি – মা। জানো লক্ষ্মীটি, তোমার মেয়ে একেবারে তোমার মত হয়েছে, তোমার মত ওর কপালের ডানপাশেও একটা তিল আছে। কিন্তু মেয়েটা সারাক্ষণ শুধু কাঁদে, মনে হয় বাবার আদর পেতে চায়। please লক্ষ্মীটি, জলদি চলে আস। জলদি ,জলদি………..।

ইতি
তোমার ভালবাসা, তোমার প্রিয়া “”


ঢাকা থেকে স্ত্রীর পাঠানো এই চিঠিটা লাহোর ক্যান্টনমেন্টে বসে আমি ক্যাপ্টেন সুমন যেদিন রিসিভ করেছিলাম তখন ‘৭১এর ফেব্রুয়ারি। প্রিয়ার ইচ্ছে ছিল, ছেলে হলে পাইলট বানাবে, মেয়ে হলে ডাক্তার। তাই মেয়ের কথা ভাবতেই আমার চোখের সামনে একটা স্বপ্ন ভেসে এল। আমার মেয়ে নামকরা ডাক্তার হবে। মেয়েকে এক নজর দেখার জন্যে ছুটি manage করতে সচেষ্ট হলাম। কিন্তু পারলাম না, শুরু হয়ে গেল যুদ্ধ। বন্ধ করে দেয়া হল বাঙালিদের পূর্বপাকিস্তানে ফিরে আসা। দেশের টানে পাকিস্তান ছেড়ে পালালাম আমরা সেনাবাহিনীর কয়েকজন। বাড়িতে একবার মেয়েটাকে দেখেই যোগ দেব যুদ্ধে- এটাই ছিল ইচ্ছা। কিন্তু ঢাকার খুব কাছাকাছি এসেও বাড়িতে যাবার ইচ্ছেটা ত্যাগ করতে হল দেশের টানে – ‘এদিকটা তখন হানাদারদের দখলে; মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নিরাপদ নয়।’ ফুটফুটে মেয়েটাকে একটু আদর দেয়ার ইচ্ছা সুপ্ত রেখেই যোগ দিলাম মুক্তিফৌজে। এরপর দীর্ঘ প্রতীক্ষা। প্রিয়ার ঐ চিঠিটা বুকে নিয়ে অস্ত্র হাতে ঘুরে বেড়ালাম দেশের এপাড় থেকে ওপাড়। চোখে বাংলামায়ের স্বাধীনতার নেশা; মনে ছোট্ট মেয়েকে আদর দেবার প্রত্যাশা। যুদ্ধের মাঝে প্রায় রাতেই আকাশের চাঁদ দেকে ভাবতাম, ‘ঐ তো আমার মেয়ে।’


যুদ্ধের শেষদিকে অক্টোবরে ৯নং সেক্টরে যুদ্ধরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আমি পঙ্গু হয়ে গেলাম। কোনমতে সে যাত্রায় বেঁচে গেলেও এই ব্যথাটাই একদিন আমাকে মরণের ডাক দিয়েছিল। যুদ্ধের বাকিটা সময় সেনাবিহনীর অধীনে চিকি
সারত ছিলাম। যুদ্ধ শেষে ডিসেম্বরে ফিরে চললাম নিজের বাড়ির দিকে। চোখে রঙিন স্বপ্ন; একটা নতুন দেশ, নতুন পতাকা আর প্রিয়ার কোলে একটা নতুন মানুষ। এত নতুনের আনন্দে পঙ্গুত্বের কষ্টটা আর আমার মনে স্থান পায়নি। কিন্তু হায় ! এ কি ! কোথায় বাড়ি, এ যে ধ্বংসস্তুপ। প্রিয়ার বদলে শোক সংবাদ; “আমার প্রিয়ার ক্ষতবিক্ষত লাশটা নাকি বিবস্ত্র অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল রাজাকারদের ঘাটির পিছনে।” আর আমার মেয়ে?? যুদ্ধ তার কোনো সন্ধান দিতে পাড়েনি। কী দোষ ছিল আমার ছোট্ট মেয়েটার ? কী অপরাধ ছিল আমার প্রিয়তমার?


২.

কেটে গেছে প্রায় ২৫টি বছর। এই বুড়ো পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধার ক্ষতস্থানটায় পছন ধরেছে। আমি ঢাকার P.G. হাসপাতালে চিকিসাধীন। বুঝতে পাড়ছিলাম জীবনের শেষ দিন আসন্ন। জীবনের সব হারিয়ে এখন নিজেকে হারাতে পারলেই আমি বেঁচে যাই। কিন্তু হায় ! জীবনের শেষ দিনগুলিতে জীবনের প্রতি একটা পড়ে গেল। কারণ – আমার চিকিসায় কর্তব্যরত ডাক্তার মেয়েটা। ওর পরম সেবা শুশ্রূষা আমাকে বারবার মনে করিয়ে করিয়ে দিতে লাগল প্রিয়ার সেই কথাগুলো – ” মেয়ে হলে ডাক্তার বানাবো ।” অবশেষে একদিন মেয়েটার মাথায় হাত রেখে বললাম, তুমি কে মা? কেন মিছিমিছি এই বুড়োর জন্য এত কিছু করছ ?
: ছোটবেলায় যুদ্ধে বাবাকে হারিয়েছি, তাই আপনার মত বাবর বয়েসি কারও কষ্ট দেখলে আমি নিজেকে সামলাতে পারিনা।


চোখের জল লুকিয়ে বড় আবদার নিয়ে বলেছিলাম, ‘ একটু কাছে আসবে মা, তোমার কপালে একটা আদর দিব।’ কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে, আজরাইল আমার প্রাণপাখিটা টানাহেচড়া শুরু করেছে। আমি উঠে বসতে ছেষ্টা করলাম, ওর কপালটা আমার মুখের কাছে আসেতই আমার চি
কার করে বলতে ইচ্ছে করছিল, ” হে আল্লাহ, আমি বাঁচব , আমাকে আর একটিবার শক্তি দাও।” কারণ, ওর কপালের ডানপাশে একটা তিল ছিল। কিন্তু আমার ওষ্ঠাধর ওর কপাল স্পর্ষ করার আগেই আমি প্রচণ্ড ব্যথায় বিছানায় লুটিয়ে পড়লাম। আমার প্রাণপাখি উড়ে চলল পড়পাড়ের উদ্দ্যেশে। আর উঠে বসা হল না, শত স্বপ্নের মেয়েকে এত কাছে পেয়েও দেয়া হল না কাঙ্ক্ষিত সুপ্ত আদরটা।


পরিশিষ্ট:


এখনও ডা. তাজনিন তার বাবার কোন সঠিক পরিচয় জানেন না, শুধু এতেটুকুই জানেন যে তার বাবা ত
কালিন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন অফিসার ছিলেন এবং যুদ্ধের পড়ে তার আর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবুও বাবার কথা মনে হলেই তার বুকটা হাহাকার করে ওঠে, চোখের সামনে কেবলই ভেসে ওঠে, একজন বৃদ্ধ তার কপালে আদর দিতে গিয়েই চমকে উঠেছিলেন, মুহূর্তেই লুটিয়ে পড়লেন মৃত্যুর কোলে।

আচ্ছা, মৃত্যু পথযাত্রী ঐ বুড়ো কী করে সিউর হয়েছিলেন যে এই তাজনিনই তার মেয়ে? একটা তিলই কি সব পরিচয় নিশ্চিত করে? হয়ত করে না। তবুও একটা অচেনা মেয়েকে নিজের মেয়ে ভেবে মনে শান্তি পেতে ক্ষতি কী…………. তবুও একটা অচেনা বুড়োকে নিজের বাবা ভাবতে ক্ষতি কী…………..

এখন প্রশ্ন আসতে পারে এই আন্তঃসংযোগকৃত ডিভাইস বা যন্ত্র সমূহ কিভাবে পরষ্পরের সাথে যোগাযোগ করে? সবার প্লাটফরম্ এক হবে এমন কোন কথা নাই, এক একটি সিস্টেম এক এক রকম কারিগরী প্রকৌশলে তৈরী, বাংলাদেশে অবস্থিত একটি পিসি কিভাবে কানাডায় স্হাপিত একটি সার্ভারে সংরক্ষিত ওয়েব পেজ দেখতে পারে? আসলেই এক জটিল ব্যপার।

প্রকৌশলীরা যখন বিভিন্ন স্হানের কম্পিউটার কে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরষ্পরের সাথে সংযুক্ত করার কাজ শুরু করলেন, তখন তারা যে জিনিষটির সবচেয়ে বেশী প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন তা হল সব সিস্টেমের মধ্যে একটি সাধারনভাবে গ্রহনযোগ্য যোগাযোগ সিস্টেম বা একটি প্রোটকল।

প্রোটকল হল সিস্টেম সমূহের মধ্যে আন্তঃ যোগাযোগ ও তথ্য আদান প্রদানের জন্য সর্বসম্মত একটি ফরম্যাট বা লে-আউট যা তথ্য আদান -প্রদানকারী উভয় সিস্টেমে বিদ্যমান। একটি প্রোটকলকে কতগুলো সর্বসম্মত প্যারামিটার তথা মানের সাহায্যে সংজ্ঞায়িত করা যায়, যেমন; ডেটা কম্প্রেশন পদ্ধতি, কি রকম এ্যারর চেকিং পদ্ধতি ব্যবহৃত হয় এবং সিস্টেম সমূহের সংকেত প্রদান পদ্ধতি যার মানে বুঝা যাবে উভয়ের মধ্যে ডেটা আদান প্রদান সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের সুবিধা ও ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে বেশ বিশাল সংখ্যক প্রোটকল ডেভেলপ করা হয়েছে। কিছু প্রোটকল আছে যা বহুল ব্যবহৃত এবং সচরাচর সবখানেই দেখা যায়, তাদের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হল।

AppleTalk: ম্যাকিন্টশ্ কম্পিউটার ও প্রিন্টার কে নেটওয়ার্কে যুক্ত করার জন্য এ্যাপল এই প্রোটকল টি ডেভেলপ্ করে।

Asynchoronous Transfer Mode (ATM): এ প্রটোকলের ভিত্তি হল একটি নির্দিষ্ট আকারের বা সাইজের প্যাকেট বা গুচ্ছাকারে ডেটার আদান প্রদান। এই নির্দিষ্ট প্যাকেট আকারের ডেটা পাঠানোর ফলে একক কোন ডেটা, বরাদ্দকৃত ব্যান্ডউইথ্ আটকে রাখে না।

DECnet: এই প্রোটকলটি ডিজিটাল ইকুইপমেন্ট কর্পোরেশন কর্তৃক ডেভেলপ করা। এটি PDP ও VAX সিস্টেমের সাথে সংযুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।

Ethernet: সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত ইথারনেট বা ল্যান (LAN) স্ট্যানডার্ড প্রোটকলটি জেরক্স্, ডিজিটাল ইকুইপমেন্ট কর্পোরেশন এবং ইন্টেল কর্পোরেশন সম্মিলিত ভাবে ডেভেলপ করে।

Fibre Distributed Data Interface (FDDI): অপটিক্যাল ফাইবারের মধ্য দিয়ে ডেটা পাঠানোর জন্য এই প্রোটকল টি ব্যবহৃত হয়।

Internet Protocols (IP): প্যাকেট-সুইচড্ কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মধ্যে ডেটা আদান প্রদানের মাধ্যম হিসাবে এই প্রোটকল টি মূলত প্রতিরক্ষা বিভাগের জন্য ডেভেলপ করা হয়। বেশীরভাগ ব্যবহারকারী বিভিন্ন ধরনের নেটওয়ার্ক প্রোটকল যেমন ইমেইল, ফাইল ট্রান্সফার প্রোটকল (FTP), টেলনেট এবং হাইপার টেক্সট ট্রান্সফার প্রোটকল (HTTP)।

Internetwork Packet Exchange (IPX): এই প্রোটকল টি নোভেল নেটওয়্যার অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে।

Netware: নোভেল কর্তৃক ডেভেলপ কৃত একধরনের ল্যান (LAN) প্রটোকল।

Signaling System 7 (SS7): এই টেলিকমিউনিকেশন প্রোটকল টি কল সংযোগ, রাউটিং ও বিচ্ছিন্নকরণের জন্য PBX সিস্টেমে ব্যবহৃত হয়।

Systems Network Architecture (SNA): আই.বি.এম কর্তৃক ডেভেলপকৃত এই নেটওয়ার্ক প্রোটকল টি আই.বি.এম এর মেইনফ্রেম সিস্টেম সমূহকে সংযোগ করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

Token Ring: আই.বি.এম কর্তৃক ডেভেলপকৃত একটি ল্যান (LAN) প্রোটকল জেখানে ডেটা প্রেরণ করার পূর্বে সিস্টেমকে অবশ্যই সেই “টোকেন” নেটওয়ার্কের সদস্য হতে হবে।

Transmission Control Protocol/Internet Protocol (TCP/IP): কতকগুলো কমিউনিকেশন প্রোটকলের সম্মিলিত সংগ্রহ যা হোস্ট্ সিস্টেম কে ইন্টারনেটে সংযুক্ত হতে সাহায্য করে। এটি সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক প্রোটকলের মধ্যে একটি এবং TCP ও IP প্রোটকলের সমন্বয়ে গঠিত।

X.25: ইন্টারন্যাশনাল টেলিফোন এ্যান্ড টেলিগ্রাফ কনসালটেটিভ কমিটি (Comité Consultatif International Téléphonique et Télégraphique) কর্তৃক ডেভেলপকৃত এই প্রোটকলটি প্যাকেট-সুইচড্ নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত হয়। ১৯৯২ সনে ভেঙ্গে দেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত CCITT ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (ITU) একটি সাব গ্রুপ ছিল।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কমিউনিকেশন প্রোটকল গুলো OSI (Open System Interconnection) মডেলকে কেন্দ্র করে ডেভেলপ করা হয়েছে। OSI বা OSI Reference মডেলটি ISO স্বীকৃত বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়। এতে সাতটি নির্দিষ্ট স্তরে বিভিন্ন প্রোটকল সমূহ প্রয়োগ করা হয়।OSI মডেলে কন্ট্রোল এক সিস্টেম থেকে অন্য সিস্টেমে যাওয়ার পূর্বে এক স্তর থেকে অন্য স্তরে স্থানান্তরিত হয় (উপর থেকে নীচে), আবার অন্য সিস্টেমে প্রবেশের পর কন্ট্রোল এক স্তর থেকে অন্য স্তরে স্থানান্তরিত হয় (নীচ থেকে উপরে), এইভাবে কমিউনিকেশন সাইকেলটি সম্পূর্ণ হয়।এটা স্মর্তব্য যে অনেক প্রোটকল বিস্তৃতভাবে OSI মডেল ব্যবহার করে এবং OSI মডেলে অনেক গুলো প্রোটকল এক বা একাধিক স্তরের সাথে মিলে একটি সিংগেল বা একক ফাংশনের মত কাজ করতে পারে।OSI মডেল প্রতিটি স্তরের জন্য সংক্ষেপন ও স্বাতন্ত্র্য (Abstraction and Isolation) সুবিধা প্রদান করে, যেমন একটি স্তরকে শুধু মাত্র তার উপরের বা নীচের বা উভয় স্তরের সাথে কিভাবে অন্তঃসংযোগ রাখতে হবে। উদাহরন হিসাবে এ্যাপলিকেশন লেয়ারের কথা বলা যেতে পারে, এই লেয়ার বা স্তরকে শুধুমাত্র প্রেজেন্টেশন লেয়ারের সাথে যোগাযোগ রাখতে হয় – একে সরাসরি ফিজিক্যাল লেয়ারের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ করতে হয় না।

You stay up all night on the PC typing and typing. No, you’re not hacking. You’re begging someone on IRC to teach you how to hack! Let’s look at the facts:

 

You’re a looser and you’re annoying. No one likes you if you ask others how to hack without taking the least amount of initiative.

You’re not worthy of any title even resembling hacker, cracker, phreaker, etc., so don’t go around calling yourself that! The more you do, the less likely you are to find someone willing to teach you how to hack (which is an infinitesimal chance, anyway).

 

You’re wasting your time (if you couldn’t infer that in the first place). Many real hackers (not those shitty script kiddies) spend all their insomniac hours reading and, yes even, HACKING! (Hacking doesn’t necessarily (but usually does) mean breaking into another system. It could mean just working on your own system, BUT NOT WINDOWS ‘9x (unless you’re doing some really menacing registry shit, in which case, you’re kind of cool).

 

You’re probably thinking, “Then what should I do. If no one’s going to help me, how can I learn to hack?” Have you ever tried READING (I assume this far that you are literate). Read anything and everything you can get your hands on! I recommend hitting a computer store and looking for discount books (books that are usually out of date, but so are a lot of the systems on the ‘net, so they’re still relevant!). You’ll be surprised what you can learn from a book even when you’re paying a dollar for every hundred pages. I recommend the following books to start off with:

 

·         Maximum Security I or II: this is not a guide to hacking, despite what you might have heard, but you can get enough info to learn the basics of how hackers hack! (Isn’t that more fun than being lamed, email bombed, and kicked off IRC).

·         Practical Unix and Internet Security (Sec. Edition): This is mostly a book about how to secure Unix (if you don’t know what Unix is, either shoot yourself now, or read O’Reilly’s Learning the Unix OS), but half of learning to hack is learning a system from the inside out. How can you expect to hack a site (w/o using a kiddie script, which i must restate, is NOT hacking) if you don’t know how to use the system?!

·         Linux Unleashed/Red Hat Linux Unleashed: these books are kind of cool. First of all, they come with Red Hat Linux (*sigh*, just go to www.linux.org and read everything there) 5.1 and 5.2 respectively (if you get the newest versions of the book, which you should). Read everything you can from it.

·         Sendmail in a nutshell: This is only after you read everything else. Sendmail, for those of you who still don’t know, is a program that sends mail. It sounds stupid, but this is a buggy program, and usually is the avenue of attack many hackers take because of its vulnerabilities.

·         TCP/IP Blueprints: this will clear up a lot of things concerning TCP/IP.

·         TCP/IP Administration: haven’t read it, but can’t wait to! (I’ve been bogged down by a lot of other REAL computer stuff).

 

After you’ve read them all, re-read them! Trust me, you gain a ton of information the second time you read them just as you gain perspicacity the second time through a movie with a twisted plot.

Then, read a ton of RFCs. RFCs are Request for Comments by the people who practically shaped the Internet. Here is a good list of RFCs (the books above give about the same list):

 

·         RFC0760 – DoD Standard Internet Protocol

·         RFC0792 – Internet Control Message Protocol

·         RFC0819 – The Domain Naming Convention for Internet User Applications

·         RFC0821 – Simple Mail Transfer Protocol

·         RFC0822 – Standard for the Format of ARPA Internet Text Messages

·         RFC0976 – UUCP Mail Interchange Format Standard

·         RFC1123 – Requirements for Internet Hosts — Applications and Support

·         RFC1135 – The Helminthiasis of the Internet (Morris Worm)

·         RFC1244 – Site Security Handbook

·         RFC1521 – MIME (Multipurpose Internet Email Extensions) Part One

·         RFC1522 – MIME (Multipurpose Internet Email Extensions) Part Two

·         RFC1651 – SMTP Service Extensions

·         RFC1652 – SMTP Service Extension for 8bit-MIMEtransport

·         RFC1652 – SMTP Service Extension for Message Size Declaration

·         RFC1675 – Security Concerns for IPng

·         RFC1704 – On Internet Authentication

·         RFC1739 – A Primer On Internet and TCP/IP Tools

·         RFC1750 – Randomness Recommendations for Security

·         RFC1825 – Security Architecture for the Internet Protocol

·         RFC1891 – SMTP Service Extension for Delivery Status Notifications

·         RFC1892 – The Multipart/Report Content Type for the Reporting of Mail System Administrative Messages

·         RFC1893 – Enhanced Mail System Status Codes

·         RFC1894 – An Extensible Message Format for Delivery Status Notifications

·         RFC1918 – Address Allocation for Private Internets

·         RFC1920 – Internet Official Protocol Standards

 

That’s it for now. If anything else interests you about the Internet, try to look up an RFC for it. Read anything you can about Internet security in general (but not stuff like “How to Hack” (but keep reading this!)). Subscribe to mailing lists. Some of my favorites are bugtraq, happy hacker (interesting stuff), and MC2. By now, you should be advanced enough to breeze through Carolyn Meinel’s “Guide to (mostly) Harmless Hacking.” It’s got some interesting stuff, but not enough to be “3l1t3.” Okay, now for the big step: the step from lamer to hacker! If you have not already, install Linux. Now it’s okay for you to go online to usenet groups and ask for help installing Linux, ‘cuz quite frankly, it’s pretty fucking hard! NEVER, EVER, EVER expect to get it on the first try just right. The next thing to do is learn programming. I recommend learning C++ first because it will help you understand a lot about programming, it’s easy to use, and is a lot like the other programming languages you should also learn. Read these books:

 

·         Teach Yourself C++ in 21 Days: the name says it all

·         Learning Perl: an AMAZING book on learning Perl

·         Programming Perl: the next step after Learning Perl

·         Perl Cookbook: the next step after Programming Perl

·         Core Java (Volume I & II): these books are by the makers of Java. Java is a really cool language to say the least, but you should at least learn C++ before so you can understand classes.

 

Now, you may be saying I may have been a bit hypocritical by saying not to ask how to hack but to ask about installing Linux. The thing is that Linux people are usually pretty nice, and the people who are Linux gurus want more than anything for Linux to prosper, and are willing to help you out. Oh, by the way, if you’ve installed Linux the way you want it (which does not include throwing you Linux box out the window and yelling, “I LIKE THIS JUST FINE!”), congratulations. You have now earned my respect.

 

Okay, I mentioned kiddie scripts earlier, and I’ll follow up on it now. Kiddie Scripts are auto hacking programs that will do all the work for you. You don’t want that. I do condone downloading them and learning from them, but don’t become a script kiddie. The only place they go in life is jail (not where you want to be).

 

Now, you should know a great deal about hacking. You have a compendium of information at your fingertips with a mental index. You want the best advice? Don’t hack. Odds are, you will get caught, and then it goes down on your criminal record, and unless you did something fan-fucking-tastic, like hacking the white house security cameras and get video of Slick Willie getting a BJ, you can pretty much kiss your computer future goodbye, coz no one will hire a convicted hacker. If you do hack, be a white hat hacker. For example, upon breaking into a site, leave a note maybe including how to contact you (not through the phones, mail, real email address etc., do it through a hotmail account or something) or how to fix it. They may be nice enough to offer you a job! That’s right, there are some people who get paid to hack and do what they love.

 

In conclusion, you may have noticed that this was not a real guide to hacking. That’s because there is no one resource for hacking. This was a guide to LEARNING how to hack, which, if you want to be a real hacker, you will have to do. There is no one way to hack. (If so, it would be a lot easier for system administrators to keep you out!) It’s a variety of different tricks as well as the ability to keep up with current vulnerabilities in software and hardware. You should also learn how to program. Even though Kevin Mitnick was infamous among the hacker culture for being the most wanted cracker, he couldn’t even write his own exploits! That’s pretty sad. Please use whatever information you have wisely and responsibly, and distribute it only to people who are worthy of it.

 

Cheers n happy hacking

নেটওয়ার্কের প্রধান অংশ গুলোর মধ্যে একটি হল নেটওয়ার্ক টপোলজি তথা নেটওয়ার্কের ফিজিক্যাল বা লজিক্যাল লে-আউটের ছক আকারের বিবরণ। এখন পর্যন্ত ডেভেলপ্কৃত নেটওয়ার্ক টপোলজি গুলোর মধ্যে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই ফিজিক্যাল লে-আউটের উপর আলাদা রকমের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। প্রধান সারির নেটওয়ার্ক টপোলজি গুলো হল ষ্টার, রিং, বাস ও মিশ্র বা মিক্সড।

Star: এই টপোলজিতে নেটওয়ার্ক কম্পোনেন্ট গুলো একটি কেন্দ্রীয় একসেস পয়েন্টে সংযুক্ত থাকে।

Bus: নেটওয়ার্ক কম্পোনেন্ট গুলো একটি প্রধান সংযোগকারী তার বা ডেটা পাথের সাথে যুক্ত থাকে যাকে বলা হয় “বাস” বা “ব্যাকবোন”। 

Ring: এতে নেটওয়ার্ক কম্পোনেন্ট গুলোর, একটি কম্পোনেন্ট সরাসরি দুটি কম্পোনেন্টের সাথে এবং নিজেদের মধ্যে একটি আবদ্ধ চক্রে সংযুক্ত থাকে।

Mixed: ব্যপক ভাবে বিস্তৃত রিং টপলোজি ব্যবহার করে এরূপ আমরা একটি অফিস কমপ্লেক্সের কথা ভাবতে পারি যেখানে এই টপোলজির মাধ্যমে অফিসটির প্রতিটি বিল্ডিং মূল নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত। প্রতিটি বিল্ডিংয়ে একটি করে বড় আকারের বাস টপোলজি থাকতে পারে যা ঐ বিল্ডিং গুলোর প্রতিটি ফ্লোরে অবস্থিত ষ্টার টপোলজিকে সংযুক্ত করে, আবার এই বাস টপোলজি গুলো মূল কমপ্লেক্সের রিং টপোলজির সাথে যুক্ত। এই ধরনের টপোলজিকে বলা হয় মিক্সড বা মিশ্র টপোলজি।

দিন দিন প্রযুক্তির উকর্ষের সাথে সাথে টপলোজির এই সংজ্ঞাগুলো প্রায়শই অকেজো মনে হয়। যখন ৫ টি কম্পিউটার একই কো-এ্যাক্সিয়াল ক্যাবল দিয়ে একটি নেটওয়ার্ক গঠন করে তখন তাকে খুব সহজেই বাস টপলোজি হিসাবে শ্রেণীকরণ করা যায়। এখন আবার সেই একই কম্পিউটার গুলো যদি একটি সুইচ বা হাব এর সাহায্যে ক্যাট-৫ ক্যাবল দ্বারা যুক্ত থাকে? হাব এর মাধ্যমে প্রতিটি কম্পিউটার কেন্দ্রীয় নোডের সাথে সংযুক্ত থাকে যা অনেকটা ষ্টার টপলোজির মত, কিন্তু হাব একটি শেয়ারকৃত মাধ্যম, অনেকটা বাস টপলোজির মত। একটি সুইচে প্রতিটি কম্পিউটার এক একটি সতন্ত্র সংযোগের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে, যা অনেকটা ষ্টার টপোলজির মত মনে হয়, কিন্তু সুইচে সবকটি কম্পিউটার একে অপরের সাথে সুইচের মূল সংযোগ সূত্রকে শেয়ার করে, অনেকটা বাস টপোলজির মত। এই ধরনের ভুল ধারনা দূর করার জন্য অনেকে নেটওয়ার্ক টপোলজির সংজ্ঞা এইভাবে প্রদান করেন যাতে শুধুমাত্র নেটওয়ার্কের ফিজিক্যাল লে-আউট বুঝা যায় আর ডিভাইসগুলো পরষ্পরের সাথে কিভাবে সংযুক্ত তার একটি পরিষ্কার ধারনা পাওয়া যায়।

এখন আমরা যদি আমাদের উদাহরণে এই চিন্তাধারা প্রয়োগ করি তাহলে হাব বা সুইচ যা ব্যবহার করিনা কেন ৫ কম্পিউটার বিশিষ্ট এই নেটওয়ার্কটি একটি ষ্টার টপোলজিতে পরিনত হয়।

প্রতিটি নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর রয়েছে একটি স্থাপত্য নকশা যা পরিকল্পনার মাধ্যমে বা আকস্মিক ভাবে তৈরি হতে পারে। একটি নেটওয়ার্ক অবকাঠামো কতগুলো বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত, তা হল – নেটওয়ার্কের ভৌত বা ফিজিক্যাল কনফিগারেশন, লজিক্যাল কনফিগারেশন, কার্য পদ্ধতি, ডেটা ফরম্যাটস্, প্রোটকল এবং আরো সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়।

সরলীকরণ এবং শ্রেণীবিভাগের জন্য নেটওয়ার্ক অবকাঠামোকে সাধারনত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়; LANs এবং WANs। LANs বা লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক সাধারণত আকারে ছোট ভৌগলিক পরিসীমার মধ্যে সংযুক্ত দুই বা ততোধিক ডিভাইসের মধ্যে হতে পারে। বাসা-বাড়িতে ব্যবহৃত ও বেশীরভাগ অফিস নেটওয়ার্ককে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক হিসাবে শ্রেণীকরন করা হয়। WANs বা ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক সমূহ আরও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত এবং ভৌগলিকভাবে আলাদা এলাকার মধ্যে লিজ্ড লাইন, রেডিও ওয়েভ, স্যাটেলাইট রিলে, মাইক্রোওয়েভ অথবা ডায়াল-আপ প্রযুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত দুই বা ততোধিক ডিভাইসের মধ্যে হতে পারে। ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক টেকনোলোজী, অপটিক্যাল ফাইবার টেকনোলোজী ও সেলুলার টেকনোলোজীর আবিষ্কারের ফলে LAN ও WAN এর মধ্যকার পার্থক্য খুব একটা চোখে পরে না বা তাদের একক সত্ত্বাকে কখনও কখনও অস্পষ্ট মনে হয়। 

উদাহরণ হিসাবে অধিকাংশ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কথা বলা যেতে পারে যাদের অনেক গুলো শাখা অফিস থাকে আর এক একটি শাখা অফিসে একাধিক LAN ব্যবহার করে এবং সবগুলো শাখা অফিসের নেটওয়ার্ক একটি WAN – এর মাধ্যমে পরষ্পরের সাথে সংযুক্ত থাকে।

নেটওয়ার্কের বিবিধ ক্রমবৃদ্ধি, পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের কারণে সুনিদৃষ্ট কোন নেটওয়ার্ককে বুঝানোর জন্য বা সংজ্ঞায়িত করার জন্য এখন আলাদা কতগুলো শব্দ ব্যবহার করা হয়। যেমন;

CAN (Campus Area Network): ক্যাম্পাস এরিয়া নেটওয়ার্ক ক্ষেত্র বিশেষে ক্যাম্পাস ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক, যা কোন অফিস বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বা সবকটি ভবনকে সংযুক্ত করে।

Intranet: একধরনের প্রাইভেট নেটওয়ার্ক যেখানে একমাত্র অথরাইজ্ড ব্যবহারকারীরা একসেস পাবেন। এখন অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেদের মধ্যে নিরাপদে তথ্য আদান প্রদানের জন্য এটি ব্যবহার করেন। 

Internet: The global network, শত শত মিলিয়ন সিস্টেম ও ব্যবহারকারীকে একসাথে সংযুক্ত করার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

MAN (Matropolitan area network):একটি সুনিদৃষ্ট ভৌগলিক স্হানের জন্য স্হাপনকৃত নেটওয়ার্ক।

SAN (Storage area network): ষ্টোরেজ এরিয়া নেটওয়ার্ক হল উচ্চতর গতি সম্পন্ন নেটওয়ার্ক সংযোগের মাধ্যমে সংযুক্ত বিভিন্ন রকমের টেপ ডিভাইস, RAID এ্যারে, অপটিক্যাল ডিস্ক ডিভাইস, ফাইল সার্ভার তথা তথ্য সংরক্ষণকারী যন্ত্র।

VLAN (Virtual local area network): ভার্চুয়াল লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক এক ধরনের লজিক্যাল নেটওয়ার্ক প্লাটফরম্ এর সুবিধা দেয় যাতে বিভিন্ন ফিজিক্যাল কনফিগারেশন সম্পন্ন নেটওয়ার্ক পরষ্পরের সাথে তথ্য আদান প্রদান করতে পারে এবং মনে হয় তারা একই ফিজিক্যাল নেটওয়ার্কে সংযুক্ত।

Client – Server: নেটওয়ার্কে এক প্রকার অতি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সিস্টেম যা এর সাথে সংযুক্ত ওয়ার্কষ্টেশন কে প্রয়োজনীয় উপাত্ত সরবরাহ করে।

Peer – to – peer: এমন একটি নেটওয়ার্ক সিস্টেম যেখানে প্রতিটি সিস্টেম কে সমান মনে করা হয়। যেমন হোম নেটওয়ার্ক সিস্টেম।

পহেলা বৈশাখ আমাদের জীবনে নিয়ে আসে নতুনের বার্তা।

পুরাতন সকল কিছুর আবসানের মাধ্যমে নব উদ্দমে আমরা চাই জীবন শুরু করতে। আমাদের জীবনের সকল ক্ষেত্রে পহেলা বৈশাখ সম্ভাবনা নিয়ে আসবে এই কামনায় আমরা নববর্ষের উদযাপনে হই আত্বহারা।

দিন আসে দিন যায়। ঘুরে ফিরে আরেকটি পহেলা বৈশাখ আসবে আবার চলেও যাবে কিন্তু কাঙ্খিত সেই সম্ভাবনাময় দিন আমাদের জন্য কত দূরে অপেক্ষা করছে তা অনিশ্চিত।

আমাদের বাঙ্গালিত্বের এই যে বহিপ্রকাশ তাও প্রাকৃতিক কিনা এ নিয়েও রয়েছে যথেষ্ট সন্দেহ। সকালে রমনায় পান্তা ইলিশ আর বাসায় ফিরে Ricky Martin, Michael Jackson আর “কাসুটি জিন্দেগি” এই প্রতারনার আবসান হওয়া দরকার। আমরা বাংলাদেশীরা ভিতরে ও বাইরে এখনো এক হতে পারিনি বলেই হয়তবা জাতি হিসেবে আমার অগ্রগতি এতটা স্লথ।

আমরা পহেলা বৈশাখ নিয়ে মাতামাতি করবো আর আমাদেরই উদাসিনতায় আমার ভাষা,সংস্কৃতি,জাতিয় চেতনা হুমকির মুখে পড়বে এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ভাষা,সংস্কৃতি শুধুমাত্র দিবস সর্বস্ব হয়ে পড়বে । আমাদের নিজের বলে আর কিছুই থাকবেনা।

কিছু দিন আগে বিয়ে শাদীর জন্য ১০ বছরের ছোট মেয়ে ছাড়া চলত না। বয়স্ক লোকেরা কচি কচি বউ নিয়ে বড়াই করে ঘুরে বেড়াত। যে যত অল্প বয়স্ক বউ নিয়ে ঘুরতে পারবে তার ক্রেডিট তত বেশী।  

ধারনাটা যতদূর সম্ভব পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা থেকে এসেছে। পুরুষরা তাদের ক্ষমতার প্রয়োগ দেখাতে ভালোবাসে। অল্প বয়সী মেয়েদের শাসন করতে সুবিধা। মেয়েদের চিন্তা ভাবনাকে নিয়ন্ত্রন করে তাদের সাথে যাতে তাল মেলায় সেটা নিশ্চিত করা যায়। তাই কিশোরী মেয়েদের বিয়ে করতে একদমই বাঁধে না মাঝবয়সী কারো।  

যদিও তুলনামূলক অল্প বয়সে বিয়ে করার ফলে সে সমস্ত নারীরা নিজস্ব বুদ্ধিবিহীন সংসার সামলানোয় ব্যাস্ত, সন্তান উপাদনের যন্ত্র বই আর বেশী কিছু হতে পারেন না। তারপরও সঙ্গত কারনেই সেমস্ত পরিবার টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশী থাকে। আর তাই এই অল্প বয়সী বিয়ে করার প্রথা চলে আসতে থাকে। আমি তো এযুগেই এই ধরনের লোক দেখেছি যারা অনেক শিক্ষিত হয়েও অত্যন্ত অল্প বয়সী না হলে বিয়ে করবেন না এরকম গোঁ ধরে থাকেন।  

ধীরে ধীরে শিক্ষিত মানুষের মধ্যে কম ব্যবধানে বিয়ে করার প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেননা বিয়ের গূঢ় অর্থ সবার কাছে ধরা দিচ্ছেবিয়ে মানে শুধু একজন প্রজননক্ষম সজ্জাসঙ্গী নয়। এর মানে আরো অনেক ব্যাপক। স্ত্রী একজন জীবন সঙ্গিনী। সুখ-দুঃখ, হাসি-আনন্দ, সফলতা-বিফলতা সবকিছুতে তার রয়েছে সমান ভাগীদার হবার অধিকার। আর তাই পশ্চিমে মনের মিল থাকাটাই সবচে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয় আর কিছু নয়।  

সমবয়সীদের মাঝে বিয়ে ব্যাপারটা ইদানীং খুব ঘটছে। একই সাথে পড়াশুনা, চাকরী বাকরী করতে গিয়ে কাছাকাছি আসা, মনের মিল খুঁজে পাওয়া এবং শেষে ঘর বাঁধা এভাবে হয়ে আসছে ব্যাপারগুলো। অনেক অভিভাবক আবার মেনে নিতে পারেন না ব্যাপারটা। তখন ঘটে সম্পর্ক বিচ্ছেদের মতো ঘটনা।   

আমার পরিচিত কিছু দম্পতিকে খুব কাছ থেকে দেখেছি, সমবয়সী স্ত্রীর কাছ থেকে সবকিছুতে যে রকম সাপোর্ট পাওয়া যায় সেরকমটা একটা অল্প বয়সী মেয়ের কাছ থেকে আশা করা মুশকিল। সবকিছুতে যে বন্ধুর মত শেয়ার করা, নিজের ভাললাগার বিষয়গুলোর সাথে একই বয়সের স্ত্রী সাথে মিল খুঁজে পাওয়া এগুলো আসলেই সম্ভব হয়না স্ত্রীর বয়স ভিন্ন হলে।   

অবশ্য যুক্তি বুদ্ধি গড়ে ওঠা একটা মেয়ের নিজস্ব চিন্তা ভাবনাকে সম্মান করবেন এমন পুরুষ পাওয়াও সমস্যা। মেয়েরা করবে ঘরের কাজ আর পুরুষ শাসন করবে সংসারএই ধারনা আমাদের দেশ তো বটেই পূর্ব ইউরোপ, ভারত, চীন এসব দেশেও প্রচলিত। অনেক পুরুষ হয়ত সমবয়সী বিয়েকে খারাপ হিসেবে দেখে না। কিন্তু সেই ব্যাক্তিই যখন সমবয়সীকে বিয়ে করে তখন সব কিছুতে স্ত্রীর খবরদারী পছন্দ করে না।   অবশ্য এই সমস্ত ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের সম্ভাবনা খুব বেশী থাকে। পুরুষের তুলনায় মেয়ে বেশী বুঝলে বা খবরদারী করতে চাইলে সেটা পুরুষশাশিত সমাজে বেড়ে ওঠা স্বামীর পচ্ছন্দ হয়না। ধরনের বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনাও খুব বিরল নয়।

কারন যাই হোক: আপনি এই সমবয়সী বা নারীর বয়স পুরুষের চেয়ে বেশী এই ধরনের বিয়ের ব্যাপারটাকে কিভাবে দেখেন?

অপসংস্কৃতি

দুশো বছর আগে আমাদের পূর্ব পুরুষেরা যখন ধুতি ছেড়ে প্যান্টালুন পড়তে শুরু করেছিল আমরা ভেবেছি আমরা সভ্য হচ্ছি। তারপর আরো বেশি সভ্য হবার জন্য প্রাণপণে ইংরেজদের অনুকরণ করেছি পরবর্তী দুশো বছর।

ইংরেজ গেল; এল মার্কিনী অতি সুসভ্য(!) আচরণ আত্মস্থ করার পালা। ভাষা-সাহিত্য-পোষাক-সংস্কৃতি সবকিছুতেই মার্কিনী অনুকরণ করলাম। সুসভ্য(!) হলাম।

স্যাটেলাইট চ্যানেল এল,আমরা শিখলাম আরেক প্রগতিশীল(!) সংস্কৃতি। শিখলাম “ভালবাসা” কাকে বলে! পরের বউকেও যদি ভাগিয়ে আনতে হয় তবে তাই সই। ভালবাসা বলে কথা! শিখলাম পরচর্চা আর পরনিন্দার নানা কলা-কৌশল। মার্কিনীদের মত এরাও আমাদের শেখাল উচ্ছৃঙ্খলতা আর অবাধ যৌনাচার মানেই “স্বাধীনতা”। “ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়।”-প্রমথ চৌধুরি বলে গেছেন অনেক আগেই। আমরা ওদের অন্ধকার দিকগুলোই খালি পেলাম।

কোন দেশের সংস্কৃতি কখনও “অপ” হয় না। এর “অপ”প্রয়োগ হয়। আর সংস্কৃতির এইসব ভুল ব্যাখ্যা,ভুল প্রয়োগ সংস্কৃতিকে অপসংস্কৃতিতে রূপান্তর করে।মানছেন ওপরের কথাগুলো? তবে আসুন না এই ব্যাপারগুলো নিয়ে একসাথে ভাবি। অপরকেও ভাবতে সাহায্য করি। নিজেদের সংস্কৃতিকে ভালবাসি। আমরা ছাড়া তো একে ভালবাসার আর কেউ নেই।

« Newer Posts - Older Posts »