স্প্রিংভ্যাল রোড আর মারুন্ডাহ হাইওয়ে ইন্টারসেকশন। মেলবোর্ণের ব্যস্ততম ইন্টারসেকশনের মধ্যে যদি বলা হয় পিক আওয়ারে প্রতি ঘন্টায় এক লাখের মত যানবাহন চলাচল করে তাহলে এর নাম আসবে সবার আগে। যাই হোক, মারুন্ডাহ হাইওয়ের ইতিহাস লিখতে বসি নাই। ঘুরোমনা স্বভাব হওয়ার কারনে প্রায় ঐদিক দিয়ে আসা যাওয়া হয়। সবসময়ই লাল বাতিতে আটকা পড়ি। আজ সকালেও সেই ঘুরতে বের হওয়া আর লাল বাতিতে আটকা পড়া। কেউ প্রসাধনের শেষ প্রলাপ টুকু মেখে নিচ্ছে। কেউবা সকালের প্রাতঃরাশের শেষ অংশটুকু মুখে ভড়ছে। আমি বাতির দিকে তাকাই, কখন হলুদের আভা দেখা দিবে, কারন তারপরে যে সবুজ রংর হাতছানি। লাল রং বাতি যে যতিচিহ্ণ একে দিয়েছে সে আমাকে ভাবায় জীবনের সব থেমে যাওয়া ঘটনার কথা।
মনে করিয়ে দেয়, সাদা পোষাকে ভোরে উঠে বিদ্যালয়ে যাত্রা। একদিন স্কুলে পৌছে দেখলাম নীরব আমাদের সদা কোলাহল স্কুল। আমার বন্ধুরা নেই ক্লাসের সামনে। ঘন্টা বাজছেনা, আমাদের শিক্ষকেরা হাসি মুখে ঢুকছেন না। সুন্দর নরম রোদের সকালে সকলে কেমন কঠিন মনোভাব। জানা গেলো সেই শক্ড খবর। আমাদের আজীজ স্যার আর নেই। যিনি গরু বলে একবার ডাক দিলে সব গরুরা এক লাইনে বসে যেতো তিনি আর নেই। যিনি চলতি নিয়মের অন্কে আমার নিত্য নতুন আবিষ্কারকে, সকল সময়ে বিনা দ্বিধায় পুরষ্কৃত করেন বেত্রাঘাত দিয়ে তিনি আর নেই। যিনি আমাকে বলেছিলেন তোর মাথায় গোবর কেন এতো, তিনি আর নেই। গতকালও তিনি আমার এলজেব্রা দক্ষতা দেখে তাড়া করতে বাকি রেখেছিলেন, তিনি মৃ্ত্যুর তাড়া এড়াতে পারেন নি।
আমি সে তাড়া এড়াতে চাই, হলুদ বাতিতে গতি কমাই, সবুজে গতি বাড়াই আর লালে থামি। কিন্তু যখন লাল বাতিতে থামি সব থেমে যাওয়ার ঘটনা ফিরে আসে আমার কাছে। আমি থেমে যাই এ ইদুর দৌড়ের রেস থেকে, জীবনকে জানতে চেষ্টা করি, উপভোগ করতে চাই, কিন্তু তারপর ই আসে সবুজ বাতি, সব কিছুকে ভুলে গিয়ে আবার পা পড়ে গতিতে, ছুটতে হয় যত দ্রুত সম্ভব, ও পারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাসে, জীবন নামক গাড়ির গতি বাড়াই, ওপারের সবুজ আমাকে জীবনের সজীবতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে শুধু গতি বাড়াই আর আমি মরিচীকার মতো একটির পর একটি লাল, সবুজের ষ্টপ লাইট পেরিয়ে যাই আর ভাবি এ বাতিটিই কি শেষ গন্তব্যের আগে?
