
সবাই প্রিয়জনকে বাঁচানোর লড়াই করছে, এমন কি মৃত্যু অবধারিত জেনেও জটিল কোনো অপারেশন করে ফেলছে সহায় সম্বল সব বিক্রী করে। মানুষের প্রিয়জনের প্রতি টানটাই এমন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক মহিলার দেখা পেয়েছিলাম। মহিলার বয়েস খুব বেশী হলে ৩৫, বারান্দায় আছড়িপিছড়ি করে কাঁদছে। আমি সামনে দাঁড়ানো। আমাকে বললো বাবা আমার কমলকে আনে দাও।
আমি কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে বললাম কমল কে হয় আপনার?
কমল মহিলার কিশোর সন্তান, তার সহাজসম্বল বলতে আনোয়ারার ভিটা আর আবাদী জমি, সবই বেঁচে এখানে এসেছিলেন। স্বামীকে বাঁচাতে। স্বামীর বয়েস ৫০এর উপরে, এই বয়েসের মহিলার সাথে হয়তো তার দাম্পত্য জীবনও ১৮ বছরের অধিক। কথায় আছে বিয়ের ৫ বছরের মাথায় স্ত্রী হয়ে যায় পাশ বালিশ, কোনো ভালোবাসা থাকে না শুধু একই বিছানায় পাশাপাশি শুয়ে থাকা আর কোনো কোনো রাতে শরীর বিনিময়ের বাইরে কোনো সম্পর্ক নাকি টিকে থাকে না।
এরপরও স্বামীর সম্পর্ক কিংবা পরিচয় কিংবা ভালোবাসার জন্য সমস্ত সম্পদ বিক্রি করে চট্টগ্রাম চলে আসা। এখানে এসে অপারেশনের পরেও তার মৃত্যু। সম্বলহীন মহিলার করুণ আর্তি ” বাবা আপনেই পারবেন আমার কমলকে ডাকে আনতে। গিয়া বলবেন, কমল তোর বাবা আর নেই রে, ও কলম , বাবা কমল, তুই তো শেষ দেখাটাই দেখতে পারলি না রে, ও বাবা কমল, আপনেরা যেভাবে পারেন আমার কমল কে ডাকে আনে দেন, বাবারা।”
আমি চুপচাপ হেঁটে বাইরে এসে দাঁড়িয়ে ছিলাম কিছুক্ষণ, অপরিচিত এক কিশোরকে খুঁজে পাই নি বাইরের দোকানে। অনেকক্ষণ পরে মাটিতে এলিয়ে পড়া মহিলাকে দেখলাম, তার সন্তান টেনে নিয়ে যাচ্ছে। দেশে তখন অসহযোগ। কোথাও যাওয়ার নেই। শববাহী সকল গাড়ীই ব্যস্ত। আর মহিলার সঙ্গতি নেই সেই লাশ বয়ে আনোয়ারা যাওয়ার। মৃত্যুর পরেও বিশাল এক দায়ে ফেলে পরলোকে চলে গেছেন বৃদ্ধ মানুষটা।
এরপরেই যাকে দেখলাম, আমার বয়সী এক ছেলে, এম্বুলেন্স পাওয়া যায় নি, নিজের গাড়ীতেই এসেছে, মৃত। ডাক্তাররা ইমার্জেন্সী আউটডোর থেকেই বলে পাঠালেন অনেক দেরী হয়ে গেছে, আর কিছু করা যাবে না। পরিবারের সবাই বিশাল বিশাল গাড়ী থেকে নেমে হতবিহ্বল। মা পড়ে আছেন গাড়ীর ব্যক সীটে, ভাই চোখের পানি মুছে ভাইকে আদর করে তুলে নিলেন কোলে। অতিসতর্কভাবে তাকে রাখলেন মাইক্রোবাসের পেছনের সীটে।
আরও একটা মৃত্যু। এই প্রতিটা মৃত্যুই অনাকাঙ্খিত। অন্তত পরিজনের কাছে কোনো সময়ই শেষ সময় নয়। সবাই আরও কয়েকটা দিন প্রিয়জনের সঙ্গ চায়। তাই মধ্যবয়স্ক মানুষটাও সবার সামনে শিশুর মতো কেঁদে উঠে বললেন, বাবা, ও বাবা তুমি না থাকলে আমাদের দেখবে কে?
নিজের মৃত্যুভয় খুব বেশী। আমি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত না। কবরের আজাবের কথা পড়লে আমার রক্ত ঠান্ডা হয়ে যায়। হাশরের কথা শুনলে আমি মাথা ঠিক রাখতে পারিনা। আমরা আসলে জীবনে এত সব স্বপ্ন দেখি, এতসব পরিকল্পনা করি এগুলো ছাগলামি ছাড়া আর কিছুই নয়। বেশিরভাগ স্বপ্ন পূরণ হয়না। বেশিরভাগ স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই আমরা মারা যাই। তবুও আমরা স্বপ্ন দেখতে থাকি। আমারও কত স্বপ্ন। অথচ ততদিন কি বাঁচব? মাঝে মাঝে মনে হয় শুধুমাত্র বেঁচে থাকাটাও একটা বিরাট সাফল্য। একটা বিরাট স্বার্থকতা।
গত ৩/৪ মাস যাবৎ আমার বুকের বাম পাশে চিনচিনে ব্যাথা অনুভব করতেছি। কোথায় যেন পড়েছিলাম বামবুকে চিনচিনে ব্যাথা মানে হৃদরোগের লক্ষণ। আমি খুবই অলস তাই ডাক্তারের কাছে যাইনা। আমার এক শুভাকাংখী বন্ধু অনেকদিন পর্যন্ত আমাকে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার জন্য তাগাদা দিচ্ছে। গত ৪/৫ দিন আগে গেলাম। ডাক্তার ৩ ঘন্টা ধরে অনেক কিছুই চেক করল। ইসিজি করল, তারপরে দুইতিনটা এক্স-রে, তারপরে ব্লাডটেস্ট। আরো কিসব যন্ত্রপাতি দিয়ে অনেক কিছুই করল। আমি জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে? ডাক্তার বলল এসব পরীক্ষাদির রেজাল্ট দেখে তারপর বলবে। এই মংগলবার আবার যেতে বলেছে। অবশ্য বলেছে এই বয়সে নাকি হৃদরোগ ভেরি আনলাইকলি। মংগলবার আসতেছে দ্রুতগতিতে। আমার প্রচন্ড ভয় লাগতেছে। সিদ্ধান্ত নিয়েছি মংগলবারে রেজাল্ট জানতে ডাক্তারের কাছে যাবনা। Ignorance is bliss!
এই পোস্টটা পড়তে পারলাম না। ফন্টগুলো ভেঙে গেছে। দয়া করে থীমটা পরিবর্তন করবেন কি? তাহলে হয়তো ভাল দেখা যেত। আমি ফায়ারফক্স ব্যবহার করি।
ভাল থাকবেন
বস সোলারিস ইউজ করতেছি। বাংলা নিয়ে একটু সমস্যায় আছি। আপাতত এই ব্যাপারে সাহায্য করতে পারছি না।