সামনে এগিয়ে যাওয়াকে আমি কখনই টেনে থামাতে চাইনা। ভাষা তার আপন গতিতে চলতে থাকবে। নইলে বাংলাদেশী বাংলা আর কলকাতার বাংলা ভিন্ন হত না। ইংল্যান্ডের ইংরেজী আর আমেরিকার ইংরেজীও একই রকম হতো।
দেশে এসে একটু ধাক্কা খেলাম। নতুন নতুন প্রচুর টিভি চ্যানেল চালু হয়েছে। আর কিছু রেডিও চ্যানেলও হয়েছে। সবজায়গাতেই একদল উপস্থাপিকা এবং উপস্থাপক দেখলাম মুখ বাঁকা করে ব্যাংলিশ বলছে। “আপনাড়া শুনছেন ড়েডিও ফুড়তি”
খালাতো ভাইয়ের বিয়ে শাদী, ছোট ভাইগুলোর বড় হয়ে ওঠার ফলে নতুন জেনারেশনের অনেককে লক্ষ্য করলাম। ভাষার সেই একই পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম। বাইরের দেশে বড় হওয়া কাজিনদের মতো করে বাংলা বলার একটা অদৃশ্য প্রতিযোগীতা। “কোথায় যাইতেসো, কি খাইতেসো কিসুইতো বললা না”
আরেকটা জিনিস লক্ষ্য করলাম। গায়ের রং ময়লা হবার কারনে উঠতি বয়সি ছেলেমেয়েরা আফ্রিকান আমেরিকানদের সাথে নিজেদের মিলিয়ে ফেলছে। ওদের অনুকরনে গান-নাচ আর জামাকাপড়ের স্টাইল বেছে নিচ্ছে।
সমাজ এগিয়ে যাবেই। গ্লোবালাইজেশনের যুগে আসলে সবকিছু আগলে বসে থাকাটা বোকামী। তবু মনে খুব ভয় হয় – বাঙ্গালীয়ানা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?