এবারের শীতে বৃষ্টিগুলো ঠিক জমেনি৷ প্রায় প্রতিদিন ই বৃষ্টি হয় একটু একটু করে, তাতে না ভরেছে মন, না ভরেছে প্রকৃতি, আসলে বর্ষাকাল হওয়া সত্বেও দেশের বৃষ্টিকে খুবই মিস করছিলাম৷ কিন্তু আজ বৃষ্টি নেমেছে একেবারে সবকিছু ছাপিয়ে৷ দেশে থাকতে বৃষ্টির সময় ছাদের চিলে কোঠায় চলে যেতাম টিনের চালের ঝমঝম শব্দ শোনার জন্য। গাছের পাতায় ঝরঝর শব্দে সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চাইছিল।
শীতকাল, এমনিতেই খুব তারাতারি রাত হয়ে যায়। মেঘের জন্য মাঝ বিকালেই আবছা অন্ধকার হয়ে গেলো। আলফ্রেড ডিকিন বিল্ডিংয়ের পাঁচতলায় দাড়িয়ে এই বৃষ্টি দেখতে দেখতে একটু নস্টালজিক হয়ে গেলাম। অন্ধকারের মধ্যে একটানা ঝমঝম শব্দ৷ ঝরঝর শব্দের একটানা বয়ে যাওয়া! মাঝে মাঝে অন্ধকার আকাশ চিরে বিদ্যুতের জ্বলে যাওয়া, আর মেঘেদের গুরুগম্ভীর গুরু গুরু শব্দ৷ এ যেন এক অন্য পৃথিবীতে বসবাস।
অপার্থিব সেই পরিবেশের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মনে পড়লো একটি মুখ৷ খুব সুন্দর, প্রিয় একটি মুখ৷ চোখের পাতায় ভালোলাগা মুখটা খেলা করে যাচ্ছিলো৷ দেখতে পাচ্ছিলাম তার হাসি, তার কালো চোখের তারায় খেলা করে যাওয়া ভালোলাগা৷ দেখতে পাচ্ছিলাম তার কপালের ছোট্ট লাল টিপ, এলোচুলে ভেসে যাওয়া মন৷ শুনতে পাচ্ছিলাম তার অপার্থিব সুন্দর রিনিঝিনি হাসির শব্দ, তার হেঁটে যাওয়ার সুন্দর ছন্দ৷
আমার সামনে দাঁড়িয়ে দু’চোখে একরাশ ভালোলাগা ছড়িয়ে সে প্রশ্ন করলো, “আচ্ছা তুমি এতো এলোমেলো কেন?”
ম্যাট এর ধাক্কায় ভাবের জগতের পতন হল। বলে mate lets go home, its freezing cold here. ভিজে ভিজে দ্রুত পায়ে কার পার্কের দিকে এগোতে থাকলাম। কিন্তু সেই রিনিঝিনি হাসির শব্দ আর কিছুতেই পিছু ছাড়লো না।
হে ঈশ্বর তোমার পৃথিবী এত ভালোলাগে কেন? সেও কি এখন বৃষ্টি দেখছে আমারি মত? সে বুঝি এখন ভাবছে আমারি কথা? জানালায় দাঁড়িয়ে, কার্নিশে জমে যাওয়া পানিতে সে কি দেখছে আমার মুখখানি? প্রতিবিম্বের সেই চোখ দু’টিতে তাকিয়ে সে কি হাসছে আপন মনে? সেই চোখে চোখ রেখে বুঝিবা বলছে সে ফিসফিসিয়ে, “কেন তুমি এরকম এলোমেলো?”
আমি কি তাকে বলব? বলব আমার ভালোলাগার কথা? আজকেই কি বলবার দিন? সে কি আসবে? আমি শিহরিত হই! নিজের অজান্তেই একলা আপন মনে হাসি৷ বুকের গভীরে অজানা এক ভালোলাগা খেলা করে যায়৷ বুঝিবা ……
এমন দিনে তারে বলা যায়
এমন ঘন ঘোর বরিষায়
এমন দিনে মন ভোলা যায়
এমন মেঘ সনে
বাদল ঝড় ঝড়ে
তপন হীন তব ঘন তমসায়……..
